বাসা থেকে বের হবার সময় আমরা প্রায় ই ওয়ালেট নিতে ভুলে যাই, দরকারী ফাইল টা নিতে ভুলে যাই, ক্লাশের তৈরি হোমওয়ার্ক এর খাতা টা নিতে ভুলে যাই এমন আরো অনেক জিনিস আছে যা আমরা প্রতিনিয়ত করি, কিন্তু প্রায় ই ভুলে যাই। ভাবুন তো কোনদিন কাপড় ছাড়া বাসা থেকে বের হয়েছেন কিনা?উওর টা হচ্ছে হননি। আসলে এটা আমাদের কখনোই ভুল হয়না। কাপড় এতটাই গুরুত্বপুর্ন আমাদের জন্য।

কাপড় ব্যাবহার এর ইতিহাস বেশ পুরানো। সৃষ্টির আদিলগ্ন থেকে মানুষ লজ্জা নিবারন এর জন্য কাপড় ব্যবহার করে আসছে। যুগের সাথে সাথে সেসব কাপড় অনেক পরিবর্তিত হয়েছে। হরেক রকমের কাপড় দিয়ে তৈরি পোশাক যার নকশা বিভিন্ন রকম। যাইহোক যুগের সাথে তাল মেলাতে বর্তমানে “স্মার্ট টেক্সটাইল” এর আগমন ঘটেছে।

“স্মার্ট টেক্সটাইল” কথাটা শোনার পর ই যে প্রশ্ন টা মাথায় আসবে তা হচ্ছে এটা কি?
স্মার্ট টেক্সটাইল হচ্ছে এমন একটা ব্যাবস্থা যা পরিবেশের পরিবর্তন বুঝতে পারে, সে অনুযায়ি নিজেকে পরিবর্তন করতে পারে বা প্রস্তুত করতে পারে। যা বর্তমানের একটা আলোচিত বিষয়। মোটকথা যে টেক্সটাইল পরিবেশের পরিবর্তনের সাথে প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে সেটাই স্মার্ট টেক্সটাইল। এটার কাজ হচ্ছে সৌন্দর্য বর্ধন করা ও পরিবেশ অনুযায়ী কাজ করা।

স্মার্ট টেক্সটাইল হচ্ছে ফলিত বিজ্ঞান এর সকল শাখার একটা সংমিশ্রন। যেমনঃ

  • টেক্সটাইল কেমেস্ট্রি
  • ফাইবার টেকনোলজি
  • মেটেরিয়াল সাইন্স
  • টেলিকমোনিকেশন
  • আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স
  • বায়োটেকনোলজি
  • ইলেকট্রনিক্স
  • ইনফরমেশন টেকনোলজি (IT)অবাক লাগছে? যে সামান্য কাপড়ের মাঝে এককিছুর প্রয়োগ! স্মার্ট টেকক্সটাইল ঠিক এতটাই উন্নত একটা প্রযুক্তি। এবার আসা যাক স্মার্ট টেক্সটাইল এর কিছু উদাহরন & প্রয়োগ নিয়ে-

♣সামরিক বাহিনীতে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রন ও প্রোটেকশন খুব গুরুত্বপুর্ন বিষয়। বর্তমানে স্মার্ট টেক্সটাইল সামরিক বাহিনীর সৈন্যদের জন্য উপযোগী পোশাক তৈরিতে ব্যাবহার হচ্ছে।

♣খেলোয়ার দের জন্য ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রন ও ঘাম একটি জরুরী বিষয়। তাদের জন্য তৈরি পোশাকে এমন প্রযুক্তি ব্যাবহার করা হয় যেনো তারা আরাম বোধ করে এবং ঘাম কমাতে সহায়তা করে।

♣মহাকাশের নভোচারীদের জন্য ও বিশেষ সুবিধা সম্পন্ন তাপ চাপ ঠিক রেখে পোশাক তৈরি হচ্ছে যা স্মার্ট টেক্সটাইল এর ই অবদান। তাছাড়া সেসব পোশাক মহাকশের নানান রশ্নি ও সুর্যের অতিবেগুনি রশ্নি থেকে তাদের রক্ষা করে।

♣নিজে নিজে ই পরিষ্কার হবে এমন পোশাক, মজার ব্যাপার তাইনা? কাপড়ের মাঝের রাসায়নিক পদার্থ নিজে থেকেই ময়লা কে পরিষ্কার করবে।

♣স্বাস্থ রক্ষার জন্য ও বাড়তি সুবিধার জন্য ভবিষ্যতের জনপ্রিয় খাত হতে পারে এই টেক্সটাইল। যা বিউটি ও প্রসাধনি ইন্ডাস্ট্রিতে পরিবর্তন আনবে।

♣কাপড়ের একটা জায়গা ছিড়ে গেছে? নিজে নিজেই সেই জায়গা পুর্ন হয়ে যাবে বা ছেড়া জায়গা ঠিক হয়ে উঠবে যা স্মার্ট টেক্সটাইল এর অবদান।

♣কাপড় নিজে নিজে ই তার রং পরিবর্তন করতে থাকবে। সকালে বের হবেন একটা কাপড় পরে বিকালে বন্ধুর সাথে পুনরায় দেখা হলে বলবে কিরে কাপড় বদলালি কখন? আসলে কাপড়টি নিজে নিজে ই তার রং পরিবর্তন করবে।

♣শরীরের হার্টবিট ও রক্ত চলাচল পর্যবেক্ষন করতে পারবে বিশেষ এক পোশাক যা প্রতিনিয়ত মোবাইলে আপডেট দিতে থাকবে।

♣শরীর সহ আশে পাশের অবস্থার অবস্থা সম্পর্কে নিজ থেকেই টুইট করতে পারবে এক পোশাক। যা এক অভাবনীয় পরিবর্তন আনবে আশা করা যায়।

♣গরমকালে বা খেলাধুলার সময় ঘাম খুব বিরক্তিকর একটা জিনিস। কেমন হয়? যদি কাপড়টা ঘামে তো ভিজবেই না বড়ং ঘাম কে ছেকে বাইরে বের করে দেবে। হা এমন ই পোশাক আমরা দেখতে পাবো স্মার্ট টেক্সটাইল এর অবদান হিসাবে।

এছাড়াও আরো অনেক ধরনের পোশাক ভবিষ্যতের দুনিয়ায় দেখা যাবে যা আমাদের জীবনকে করবে সহজ, আরামদায়ক, নিরাপত্তা সমৃদ্ধ।

এসব পোশাক এর জন্য গুনগত মান ঠিক রাখা হবে অন্যতম চ্যালেঞ্জ। কারন এতে নানান ধরনের বৈজ্ঞানিক ব্যাপার জড়িত থাকবে যা ঠিকভাবে নিয়ন্ত্রন না করা না হলে, মানব শরীরের জন্য হুমকি স্বরুপ হতে পারে।

পরিবেশের সাথে পরিবর্তন না হলে সবকিছুই একসময় শেষ হয়ে যায়। তাই যুগের সাথে সাথে আমরা ও আমাদের টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি ও পরিবর্তন হয়ে যাবে। আমাদের জীবনকে আরো এক ধাপ এগিয়ে নিতে ও সহজ করতে।

ABDUL HAI RABBI
FABRIC ENGINEERING DEPT.
PABNA TEXTILE ENGINEERING COLLEGE