জিওটেক্সটাইল আসলে টেক্সটাইল, শব্দের প্রচলিত অর্থে নয়। এগুলি তুলো, উলের বা রেশমের
মতো কোন প্রাকৃতিক উপকরণ নয়। জিওটেক্সটাইল হল বড় চাদর যেটা বর্ষার দিনে আমাদের
পৃথিবীর মাটি সংরক্ষণ করে এবং দৃঢ়ভাবে আবদ্ধ হয়। জিও টেক্সটাইল প্রোডাক্ট মূলত পলিস্টার,
পলিপ্রপিলিন, পলিঅ্যামাইড দিয়ে তৈরি করা হয়। রাস্তা, ড্রেন, গৃহায়ন এবং বাঁধ তৈরিতে ব্যবহৃত
হয়। এছাড়াও এটা স্থাপত্য প্রকৌশলীর আরও অন্যান্য কাজে ব্যবহৃত হয়। এতে মাটির বৈশিষ্ট্য
পরিবর্তন করে দূর্বল ও অকার্যকর জায়গায় ভবন নির্মাণ এর উপযোগি করে তুলে।
জিওটেক্সটাইল প্রকার

1) Woven Fabric Geotextiles
2) Non-Woven Geotextiles
3) Knitted Geotextiles

জিওটেক্সটাইল পণ্যের বিভিন্ন সুবিধাসমূহ নিম্নে বর্ণিত হল:-
১. জিওটেক্সটাইল দ্বারা তৈরিকৃত ফেব্রিক ওভেন ফেব্রিকের তুলনায় হালকা হয়। ফলে এটা
হ্যান্ডেলিং করা সহজ হয় এবং পরিবহনের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা পাওয়া যায়।
২. ওয়েফট নিবেশে তৈরি ফেব্রিকের ক্ষেত্রে জিওটেক্সটাইল একটি গুরুত্বপূর্ণ মাত্রা যোগ করে।
জিওটেক্সটাইল এই ধরনের ফেব্রিকের ক্ষেত্রে বিদীর্ণকরণ শক্তি বৃদ্ধি করে।
৩. রাস্তা তৈরিতে পিচ এবং টুকরা ইট এই দুই স্তরের মাঝে জিওটেক্সটাইল ফেব্রিক ব্যবহার
করলে রাস্তা বৃষ্টির পানিতে ক্ষয়ে পড়ার হাত থেকে রক্ষা পায়।
৪. মাটির দুই স্তরের পার্থক্যকারী হিসাবে জিওটেক্সটাইল বিপুল পরিমাণে ব্যবহৃত হয়।
৫. আর্দ্রতা প্রতিবন্ধক হিসাবে জিওটেক্সটাইলের উপকারীতা অতুলনীয়।
৬. জিও-টেক্সটাইল ড্রেইনেজ এ ভূমিকা রাখে , এজন্যে খেলার মাঠে ব্যাবহার হয়।
৭.পাহাড় ধ্বস ঠেকাতে ব্যাবহার হয় জুট জিওটেক্সটাইল ।
বাংলাদেশে জিওটেক্সটাইল
বাংলাদেশে জিওটেক্সটাইল কাজে নতুন বিপ্লব জুট-জিওটেক্সটাইল ।বাংলাদেশে অনেক জিও-
টেক্সটাইল কাজের প্রজেক্ট এ ব্যাবহার হচ্ছে জুট-জিওটেক্সটাইল।
সাধারণত পাট ভালোভাবে জন্মাতে ১২০ দিন মতো সময় লাগে। এই সময়ে প্রতি হেক্টর জমিতে যে
পাট উৎপন্ন হয় তা প্রায় ১১ টন অক্সিজেন নিঃসরণ করে এবং ১২ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড
শোষণ করে। কাজেই এর পরিবেশবান্ধবতার শুরু জন্ম থেকেই। এছাড়াও রাস্তা নির্মাণ, পাহাড়ধস
রোধ বা নদীভাঙন রোধের কাজে যখন এটি ব্যবহার হচ্ছে, তখন এক পর্যায়ে এটি পচে গিয়ে মাটির
সঙ্গে মিশে যাচ্ছে। কাজেই এটি নিঃসন্দেহে পরিবেশবান্ধব।বহির্বিশ্বে পরিবেশবান্ধব প্রাকৃতিক
তন্তুজাত দ্রব্যসামগ্রীর প্রতি আকর্ষণ সীমাহীন। বলাই বাহুল্য, আমাদের রাষ্ট্রায়ত্ত এবং

প্রাইভেট পাটকলগুলো এই বিপুল পরিমাণ জুট জিওটেক্সটাইল প্রস্তুত ও সরবরাহ করার জন্য
সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত রয়েছে।
আমাদের দেশে নদীভাঙন রোধে বা রাস্তার ঢাল সংরক্ষণের জন্য বিপুল পরিমাণে সিনথেটিক
জিওটেক্সটাইল ব্যবহার করা হচ্ছে বেশ অনেক বছর ধরে।
২০১০ সাল থেকে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় জুট ডাইভার্সিফিকেশন প্রমোশন
সেন্টারের (জেডিপিসি) দক্ষ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), বাংলাদেশ
পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিজেআরআই), স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি), সড়ক ও
জনপথ বিভাগ (আরএইচডি), বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বিডবিল্গউডিবি), সেনাবাহিনীর স্পেশাল
ওয়ার্কস অর্গানাইজেশন (এসডবিল্গউও), মৃত্তিকা গবেষণা ও উন্নয়ন ইনস্টিটিউট
(এসআরডিআই) এবং বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন (বিজেএমসি) সম্মিলিতভাবে পাটজাত
জিওটেক্সটাইল বা জুট জিওটেক্সটাইল উদ্ভাবন করা থেকে শুরু করে মাঠ পর্যায়ে বাস্তব প্রয়োগের
মাধ্যমে এর উপযোগিতা নির্ণয় করার উদ্দেশ্যে পাঁচ বছরব্যাপী একটি গবেষণাধর্মী পরীক্ষামূলক
প্রকল্প হাতে নেয়। এই প্রকল্পের অর্থায়ন করে জাতিসংঘের অঙ্গ সংগঠন কমন ফান্ড ফর
কমোডিটিস (সিএফসি), বাংলাদেশ সরকার এবং ভারত সরকার।
জিওটেক্সটাইল যে সাফল্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তার মূল কারণ বর্তমান সরকারের নিরলস এবং
আন্তরিক পৃষ্ঠপোষকতা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে তার
সাম্প্রতিক পরিদর্শনের সময় পাট ও পাটজাত দ্রব্যের প্রচার-প্রসারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব
দিয়েছেন। দেশীয় প্রকল্পগুলোতে ব্যবহারের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত জুট জিওটেক্সটাইলকে এখন
বিশ্ববাজারে নিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে। কাজটি করার জন্য বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং
বিজেএমসিকেই মুখ্য ভূমিকা রাখতে হবে।

মুহাম্মাদুল্লাহ
sarstec
ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং
৮ম ব্যাচ