সাধারণত কটন এবং অন্যান্য সেলুলোজ ফাইবারসমূহ ডাইং করতে রিয়েক্টিভ ডাই ব্যবহার করা হয়ে থাকে । কিন্তু রিয়েক্টিভ ডাইংয়ে প্রচুর পরিমানে রাসায়নিক পদার্থ, পানি এবং শক্তির প্রয়োজন হয় যা একাধারে ব্যয়বহুল ও পরিবেশবান্ধব নয় । ডাইং সম্পন্ন করে, যন্ত্রপাতিসমূহ থেকে ডাইসমূহ দূর করতে প্রচুর পরিমাণ পানি ব্যবহার করা হয় যা পরবর্তীতে ডাইসমূহের সাথে মিশ্রিত হয়ে দূষিত এবং বিষাক্ত পানিতে পরিণত হয়ে পরিবেশ দূষণ করে । আর এজন্যই টেক্সটাইল ডায়িং শিল্প হচ্ছে পানি দূষণের দিক দিয়ে ২য় স্থানে । কিন্তু এ সাধারন ডাইংয়ের পরিবর্তে যদি “কোল্ড প্যাড ব্যাচ”( CPB) ডাইং পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় তাহলে একাধারে পানি এবং শক্তির ব্যবহার কমানো যাবে । পাশাপাশি পরিবেশ দূষণের মাত্রাও কমানো যাবে ।

🔹”CPB” ডাইংয়ে কোনো তাপ প্রয়োগ করতে হয় না । এছাড়া কোনো রকমের সল্ট বা মসৃণকারকও ব্যবহার করতে হয় না । ডাই প্যাডের সামগ্রী প্রস্তুত করা হয় ডাইং করার কিছুক্ষণ আগে, যাতে করে হাইড্রোলাইসিস প্রতিরোধ করা যায় এবং ভালো মানের ডাই ফিক্সেশন করা যায়। আর এজন্য ডাইয়ের দ্রবণ এবং ক্ষারের দ্রবণ আলাদা ভাবে পাম্প করে মিশ্রিত করা হয় ডাইয়ের পাত্রে, ডাইংয়ের কিছুক্ষন আগে । উচ্চমানের স্থায়ী রোলারের প্রয়োজন হয় ভালো মানের ডাইং পেতে এবং ফেব্রিকের ক্ষয় রুখতে ।”কোল্ড প্যাচ ডাইং “মেশিন ব্যবহার করা হয় CPB ডাইংয়ে । এই ডাইংয়ে নিম্নের রাসায়নিক পদার্থসমূহ ব্যবহার করা হয়ে থাকে :
১. ডাই ।
২.ইউরিয়া ।
৩.কস্টিক সোডা ।
৪.সোডা এ্যাস ।
৫.ওয়েটিং এজেন্ট ।
৬.এন্টি মাইগ্রেটিং এজেন্ট ।
৭.ডিসপার্সিং এজেন্ট ইত্যাদি ।

🔸শুধু মাত্র সেলুলোজ ফাইবারগুলো যেমন-কটন, উল, লিনেন ইত্যাদিতে এই “CPB” ডাইং করা যায় । সিল্ক, এবং কৃত্রিম ফাইবারগুলোতে এই ডাইং করা যায় না । এই পদ্ধতি ওভেন এবং নিটিংয়ে প্রাপ্ত ফেব্রিকের ওপর প্রয়োগ করা হয় । যেহেতু কোনো ক্ষয়কারী পদার্থ ব্যবহার করা হয় না ” CPB” ডাইংয়ে, তাই মসৃণ ফেব্রিক পাওয়া যায় কোনো রকম বায়োপলিশিং ছাড়াই ।

🔹কোল্ড প্যাড ডাইং মেশিনের কার্যক্রম : প্রথমেই ডাই এবং রাসায়নিক পদার্থসমূহ কোল্ড প্যাড ডাইং(CPD) মেশিনে নেয়া হয় । ডাই এবং রাসায়নিক পদার্থের অনুপাত হয় ২:১ । যদি ১০০০ লিটার উৎপাদন করা হয় তাহলে ১০০ ভাগ হবে ডাই এবং ৫০ ভাগ হবে রাসায়নিক পদার্থসমূহ । মার্সেরাইজিংয়ের পর, ব্যাচসমূহ “CPD” মেশিনে প্রবেশ করানো হয় । এরপর ফেব্রিকসমূহ মেশিনের রোলারের মধ্যদিয়ে যায় এবং ডাইং সম্পন্ন হতে থাকে । ফেব্রিকের প্রবেশ, নির্গমন, গতি ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য একটি কম্পোনসেটর থাকে ৷ এভাবে ডাইং সম্পন্ন হয়৷

“কোল্ড প্যাড ব্যাচ”(CPB) ডাইংয়ের সুবিধাসমূহ:

➡প্রায় ৫০% পানির ব্যবহার কমায় ।
➡অপেক্ষাকৃত কম শক্তির প্রয়োজন হয় ।
➡ডাই ফিক্সেশনের হার বেশি হয় ।
➡কোনো রকম সল্ট ব্যবহার করা হয় না যার কারণে সহজেই ওয়াশ অফ করা যায় ।
➡প্রি-ডাই চেক করা যায় এবং ফেব্রিকের ডাইং সঠিকভাবে নিশ্চিত করা যায় ।
➡CPD মেশিনে বেশি পরিমাণ ফেব্রিক ডাইং করা যায় জেট মেশিনের তুলনায় ।
➡ফেব্রিক মসৃণ হয় কোনো রকম বায়োপলিশিং ছাড়াই।
➡ফেব্রিক অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী হয় ।
➡স্বল্প পরিমান বিদ্যুৎয়ের প্রয়োজন হয় ।

অসুবিধাসমূহ:
➡এই ডাইংয়ে সময় বেশি প্রয়োজন হয় । প্রায় ১২ ঘন্টা ব্যাচিং করতে হয় ।
➡উচ্চমানের মেশিনারি ছাড়া এই পদ্ধতি উপযোগী নয় ।
➡ওয়াশ অফ এবং অফ লাইন ব্লিচিংয়ের প্রয়োজন হয় যা অনেক ক্ষেত্রে সমস্যা সৃষ্টি করে ।
➡ তাপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষের দরকার হয় ডাই ফিক্সেশনের জন্য ।

পরিশেষে বলা যায়, টেক্সটাইল শিল্পের দূষণ এবং উৎপাদন খরচ কমাতে “CPB” ডাইং একটি দারুণ পদ্ধতি ।

তথ্যসূত্র: “European Resource Efficiency Knowledge Center”

লেখক- মোহাম্মদ রাফি
ডিপার্টমেন্ট অব ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং
ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ , পীরগঞ্জ, রংপুর