অটোমেশন কি?
মেশিন এবং প্রয়োজনীয় উপকরণের সাহায্যে সহজে,কম সময়ে এবং দক্ষতার সাথে উৎপাদন বৃদ্ধি
করাই মুলত অটোমেশন। অটোমেশন অথবা অটোমেটিক কন্ট্রোল, এর সাহায্যে বিভিন্ন মেশিন এর
সাথে সমন্বয় করে ফ্যাক্টরির বিভিন্ন ধাপে মানুষের কাজ কমিয়ে দিচ্ছে। টেক্সটাইল পন্য তথা তুলা,
সুতা, ফেব্রিক, রেডিমেড গার্মেন্টস ইত্যাদি এখন অটোমেশনের সাহায্যে খুব সল্প সময়ে করা যায়।
এমনকি গাছ থেকে তুলা সংগ্রহ করা, জিনিং এও অটোমেশন ব্যবহৃত হয়।

টেক্সটাইলের বিভিন্ন সেক্টরে অটোমেশনের ব্যবহার:

১) স্পিনিং: স্পিনিং এর শুরু থেক শেষ পর্যন্ত অটোমেশনের ব্যবহার দেখা যায়। পূর্বে গাছ থেকে তুলা
সংগ্রহ সম্পুর্নভাবে মানুষের সাহায্যে করা হতো। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অটোমেশনের
সাহায্যে গাছ থেকে তুলা সংগ্রহ করা হয়। এমনকি জিনিং প্রক্রিয়াও অটোমেশনের সাহায্যে করা হয়।
২০ বছর আগে কটন ফাইবারের যে প্রক্রিয়াটি করতে ঘন্টার পর ঘন্টা লাগতো, সেটি এখন কয়েক
সেকেন্ডের সাহায্যে করা হয় এইচ.ভি.আই পদ্ধতির সাহায্যে। বিভিন্ন আবিষ্কার এবং অটোমেশনের
ক্রমাগত অগ্রগতির ফলেই এটি সম্ভব হয়েছে। ব্লোরুমে তুলার বেল মিক্সিং করার জন্য পূর্বে
মেশিনের ব্যাবহার ছিলো না। শ্রমিকরা বড় বড় তুলার বেল হাতে খুলে এগুলো মিক্সিং করতো। ফলে এটি
করতে অনেক বেশি সময় লাগতো। বর্তমানে ব্লোরুমে সম্পুর্নোভাবে অটোমেশনের সাহায্যে তুলার বেল
খোলা থেকে শুরু করে মেশানো পর্যন্ত মেশিনের সাহায্যে করা হয়। ফলে এক সাথে যেমন অনেকগুলো
কটন বেল খোলা যায়, একই সাথে তুলাগুলো পূর্বের তুলনায় অনেক ভালোভাবে এবং সমভাবে মেশানো
হয়।
এছাড়া কার্ডিং মেশিনেও অটোমেশন ব্যবহৃত হচ্ছে। পূর্বে ব্লোরুম থেকে যে ল্যাপ তৈরি হতো সেটি
শ্রমিকরা ম্যানুয়ালি কার্ডিং মেশিনে বসাতো। ফলে ল্যাপের গুনগত মানে তারতম্য দেখা যেত। বর্তমানে
কার্ডিং মেশিনে চুট ফিড, অটোলেভেলার ব্যবহৃত হয়। ফলে ব্লোরুমে যে ল্যাপ তৈরি হয়,সেটি এখন
সরাসরি কার্ডিং মেশিনে চলে যায়। এছাড়া অটোলেভেলার এর ব্যবহার করার ফলে একি সাথে গুনগত
মান এবং প্রোডাকশন বেড়ে গেছে।অটোকোনের এবং ইয়ার্ন ফল্ট ডিটেকশন ব্যবহারের ফলে সুতার
গুনগত মান বৃদ্ধি পাচ্ছে।বর্তমানে অটোমেশনের ব্যবহারের ফলে রিং স্পিন্ডলের স্পিড ২০০০০
আর.পি.এম এবং হাই স্পিড রোটোর এর স্পিড ১০০০০০ আর.পি.এম পর্যন্ত সম্ভব। বর্তমানের স্পিনিং
মেশিন গুলো অতীতের মেশিনগুলোর তুলনায় ২০গুন বেশি উৎপাদন সক্ষম।

২) ফেব্রিক ম্যানুফ্যাকচারিংঃ ফেব্রিক ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে অটোমেশন বহুল ব্যবহৃত একটি
পদ্ধতি। উইভিং এবং নিটিং মেশিনে অনেক পূর্ব থেকেই কম্পিউটারের ব্যবহার হচ্ছে।
উইভিংয়ের শুরুর ধাপ ওয়াইন্ডিং, ওয়ার্পিং, সাইজিংয়ে অটোমেশন ব্যবহৃত হয়। হাই স্পিড
ওয়ার্পিং এর সাহায্যে খুব দ্রুত ওয়ার্পিং বিমে সুতা প্যাচানো হয়।এছাড়া সুতাতে কোনো ত্রুটি
থাকলে সেগুলো সেন্সর এর সাহায্যে খুব দ্রুত সনাক্ত করা হয়। এছাড়া সাইজিং মেশিন গুলো
বর্তমানে খুব উন্নত। উন্নত প্রযুক্তির অটোমেটিক সাটল লুম, অটোমেটিক সাটল লেস লুম,
ইলেকট্রনিক ডবি, জ্যাকওয়ার্ড হেড,অটোমেটিক পিক ফাইন্ডিং, নিডেল সিলেকশন ইত্যাদি
ক্ষেত্রে কম্পিউটার ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়া ওয়ার্পিং বিমে কোথাও সুতা ছিড়ে গেলে সেটিও
কম্পিউটেরাইজড মেশিন কন্ট্রোলের সাহায্যে করা হয়।
৩) ডায়িং এবং প্রিন্টিং: ডায়িং প্রসেসের রেসিপিতে যদি সামাণ্য অর্থাৎ মিলিগ্রাম পরিমাণও ভুল হয়
তাহলে ফেব্রিকের শেডে পরিবর্তন হয়ে যাবে। বিভিন্ন প্যারামিটার যেমন তাপমাত্রা, চাপ, মিক্সিং এর
সময় ইত্যাদি ডায়িং এর জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। অটোমেশন ব্যবহার করে ডায়িংয়ের প্যারামিটারগুলো খুব
সূক্ষ্মভাবে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।

৪) টেক্সটাইল ফিনিশিংঃ টেক্সটাইল ফিনিশিংয়ে অটোমেশন অনেক আগের থেকে ব্যবহার হচ্ছে, তবে
সময়ের সাথে এটি আরো আধুনিক হচ্ছে। মেশিন নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি, রোবোটাইজ্ড সিস্টেম, কালার
এনালাইসিস ইত্যাদি ক্ষেত্রে অটোমেশন উল্লেখযোগ্য।
অটোমেশনের সুবিধা:
১.কম শ্রমিক মজুরি।
২.কম সময়ে বেশি উৎপাদন।
৩.পণ্যের গুণগতমান বৃদ্ধি।
অটোমেশনের অসুবিধা:
১.উচ্চ বিনিয়োগ খরচ।
২.বেকারত্ব বৃদ্ধি।

https://textilelearner.blogspot.com/2012/12/automation-in-textile-manufacturing.html

Name: Abdullah Al Baki Upol
Department : Textile Engineering
Session: 2017-18
Institution: Shyamoli Textile Engineering College